আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি;

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে একটি গাদা বন্দুক এবং অপরটি ছোট আকৃতির দেশীয় বন্দুক রয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নির্দেশনায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের বামহাতিরছড়া বড়ইতলী গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাইটের পোড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার এসআই (নিরস্ত্র) ফেরদৌস রনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলে ছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, লাইটের পোড়া এলাকা থেকে কালাচানের রাস্তার পূর্ব পাশে পাহাড়ি ঝোপঝাড়ের মধ্যে কিছু অস্ত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে পাহাড়ি ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে দুটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি গাদা বন্দুক, যার বাটসহ দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৮ ইঞ্চি এবং ব্যারেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ইঞ্চি। কাঠের বাট সংযুক্ত অস্ত্রটির এক পাশে লোহার আংটা ও ট্রিগার রয়েছে।

এছাড়া অপর অস্ত্রটি ছোট আকৃতির দেশীয় বন্দুক, যা দেখতে ওয়ান শুটারের মতো। এর বাটসহ মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ ইঞ্চি এবং ব্যারেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ইঞ্চি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, অস্ত্র দুটি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কিনা অথবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নম্বর-৮৯৮ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই (নিরস্ত্র) মো. পলাশ খানকে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলোর উৎস, কারা সেখানে রেখে গেছে এবং এগুলো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, সেসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।